বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। শুক্রবার সেই প্রকল্প চালু করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ল পুলিশ ও প্রশাসন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাশিলার ডাঙা এলাকায়। ধস্তাধস্তিতে ময়নাগুড়ি থানার আইসি শীর্ষেন্দু দাসসহ সাত পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। এক পুলিশ আধিকারিকের সরকারি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এক মহিলাসহ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে আশপাশের এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল তাঁদের মধ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিনই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেন বাসিন্দারা। পরে সেটি ফের চালু করার চেষ্টা করে প্রশাসন। কিন্তু গ্রামবাসীদের বাধায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

শুক্রবার ফের প্রকল্পটি খোলার জন্য এলাকায় পৌঁছন ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাস এবং থানার আইসি শীর্ষেন্দু দাস। তাঁদের সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রকল্পের তালা খোলার উদ্যোগে আপত্তি জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। প্রথমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। প্রকল্প চালু করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

অভিযোগ, বচসার মধ্যেই কয়েক জন পুলিশের উপর চড়াও হন। সেই সময় এক পুলিশ আধিকারিকের সরকারি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান এক ব্যক্তি। এরপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তাতে আইসি-সহ সাত পুলিশকর্মী আহত হন। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে এক জনের কাছ থেকে ওই মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকল্পটি বন্ধ রাখার পিছনে স্থানীয় বাসিন্দাদের যে দুর্গন্ধের অভিযোগ রয়েছে, তার সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রকল্প চালু করা নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ এবং বাসিন্দাদের আপত্তির মধ্যে কীভাবে সমাধানসূত্র বের হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

Leave a comment