অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে গাইঘাটায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শুক্রবার বাড়ি থেকেই তার দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবকের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

পরিবারের দাবি, সুরজিৎ হালদার নামে ওই যুবকের সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে নাবালিকার সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার ছবি এবং নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পরে ভিডিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হত বলে দাবি পরিবারের।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে পরিবার জানিয়েছে, মাস তিনেক আগে নাবালিকাকে ফের ওই যুবকের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও তোলা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেল করা হত। ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে বারবার শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের মায়ের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তাঁদের দাবি, নাবালিকাকে ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই নাবালিকা চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নাবালিকার মৃত্যুর সঙ্গে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Leave a comment