আবাস যোজনার টাকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা নতুন নয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই এ বার হিসাব তুলে ধরে নিজের সরকারের অবস্থান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আবাস যোজনার টাকা দেওয়ার সময় হিন্দু-মুসলিমের কোনও ভেদাভেদ করা হয়নি। যাচাইয়ের পর যাঁদের উপযুক্ত মনে হয়েছে, ঘর তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভূতনিতে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে এ নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে আবাস যোজনায় ৬৭ হাজার ১১৩ জন প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। পরে উপভোক্তাদের যাচাই করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বন্ধ হয়ে যাবে—এমন প্রচার হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাস্তবে তেমনটা হয়নি। ধর্মের পরিচয় দেখে কাউকে টাকা দেওয়া হয়নি। যাঁরা ঘর তৈরি করেছেন এবং নিয়ম মেনে যোগ্য হয়েছেন, তাঁরা টাকা পেয়েছেন বলেই জানান তিনি।

অন্যদিকে, আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে কাউকে ছাড়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়মের বাইরে গিয়ে যাঁরা সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে জেলেও যেতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মালদহে আবাস যোজনায় আরও বাড়ি তৈরির কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলাজুড়ে নতুন করে ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২টি বাড়ি তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এদিনের সভা থেকে নাবালিকা বিয়ে নিয়েও মালদহবাসীর কাছে আর্জি জানান শুভেন্দু। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। কম বয়সে মেয়েদের মা হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই প্রবণতা বন্ধ করতে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a comment