নন্দীগ্রামে বড় ব্যবধানে জয়ের পর রেজিনগরেও বিজেপির সাফল্য। এই ফলের পর সংখ্যালঘু ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রেজিনগরে সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এতদিন বিজেপিকে নিয়ে তাঁদের মনে যে ভয় তৈরি করা হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে গত পাঁচ মাসে। 

আর সেই কারণেই ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। এ নিয়ে বাম ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগও তুলেছেন শুভেন্দু।

নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসিরানি রথ এক লক্ষের বেশি ভোটে এগিয়ে জয় পেয়েছেন। তবে রেজিনগরের ফল নিয়ে কৌতূহল ছিল বেশি। কারণ, এই কেন্দ্রে এর আগে বিজেপি জেতেনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে বিজেপির শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে জয়ী হন।

শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বলেন, রেজিনগরে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু পরিবারের বহু মহিলা তাঁর দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ৭০ শতাংশের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই হিসাবের পক্ষে আলাদা কোনও তথ্য তিনি তুলে ধরেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে এতদিন যে আশঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল, তা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে বলে মানুষকে ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সেই ধারণা ভুল বলে বুঝেছেন ভোটাররা। গত ৬ অক্টোবর রেজিনগরে ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’-র কথা বলেছিলেন তিনি। এলাকার মানুষ তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলেই দাবি শুভেন্দুর।

হুমায়ুন কবীরকেও ছেড়ে কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে হুমায়ুনের বক্তব্যের বিরোধিতা সংখ্যালঘুদের একাংশ করেছেন বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর মতে, সরকারের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা থেকেই তাঁরা বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন।

ভোটের ফলের পাশাপাশি রেজিনগরের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, এলাকায় কলেজ তৈরি, নারকেলবাড়ি সেতুর কাজ এবং হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুগ্ধশিল্পের প্রসারে আমুলের কারখানা তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই প্রতিশ্রুতিগুলি কবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে এলাকার বাসিন্দাদের।

Leave a comment