নেপালের একটি কারখানায় যাওয়ার পথে তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার থেকে উধাও হয়ে গেল প্রায় সাড়ে ৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। গায়েব হওয়া তেলের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সংস্থার। মাঝপথে ট্যাঙ্কারটি হাইজ্যাক করে তেল চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হলদিয়া থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ৪৪.২২ মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল হলদিয়া থেকে নেপালের একটি কারখানায় পাঠানো হয়েছিল। ট্যাঙ্কারটি রওনা দেওয়ার পর মাঝপথে তার জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। একই সময়ে চালক ও গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ট্যাঙ্কারটির গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
তবে সেই সময় তেল চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। নেপালের দিকে যাওয়ার পথে ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে সোনৌলিতে পুলিশ ট্যাঙ্কারটি আটক করে। গাড়িটি পরীক্ষা করার সময় সেফটি সিল ও তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। এরপর ট্যাঙ্কার থেকে তেল খালাসের সময় পরিমাণ মেলানো হয়।
তাতেই সামনে আসে বড়সড় ঘাটতি। হলদিয়া থেকে পাঠানোর সময় ট্যাঙ্কারে ছিল ৪৪.২২ মেট্রিক টন তেল। পরে সেখানে পাওয়া যায় ৩৮.৮৫ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রায় ৫.৩৮ মেট্রিক টন তেলের কোনও হদিশ নেই। ওই তেলের আনুমানিক দাম প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
ঘটনার প্রায় ২৫ দিন পর হলদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ট্যাঙ্কারের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে সংস্থাটি। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।
ট্যাঙ্কারটি হলদিয়া থেকে সোনৌলি পর্যন্ত কোন পথে গিয়েছিল, কোথায় কোথায় থেমেছিল, জিপিএস কখন বন্ধ হয়েছিল—এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চালক ও গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ট্যাঙ্কার থেকে তেল কোথায় সরানো হয়েছিল এবং এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Leave a comment