গঙ্গার বাঁধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাহিবগঞ্জ–বারহারওয়া শাখায় ব্যাহত রেল পরিষেবা। সাকরিগলি ও মহারাজপুরের মাঝের অংশে বাঁধ কেটে যাওয়ার জেরে ডাউন লাইনে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আপ লাইনে অবশ্য নিয়ন্ত্রিত গতিতে ট্রেন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য ঘটনাস্থলে কাজ করছেন রেলের আধিকারিক ও কর্মীরা।

এই পরিস্থিতিতে ৫ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে মালদহ টাউন–সাহিবগঞ্জ MEMU, আজিমগঞ্জ–সাহিবগঞ্জ MEMU, সাহিবগঞ্জ–ভাগলপুর MEMU, বারহারওয়া–সাহিবগঞ্জ প্যাসেঞ্জার এবং হাওড়া–সাহিবগঞ্জ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। রামপুরহাট–সাহিবগঞ্জ MEMU-ও বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া সাহিবগঞ্জ–মালদহ টাউন, সাহিবগঞ্জ–আজিমগঞ্জ এবং ভাগলপুর–সাহিবগঞ্জ MEMU-সহ আরও কয়েকটি ট্রেন চলবে না। বাতিল হয়েছে সাহিবগঞ্জ–বারহারওয়া প্যাসেঞ্জার, সাহিবগঞ্জ–রামপুরহাট MEMU, সাহিবগঞ্জ–হাওড়া এক্সপ্রেস এবং জামালপুর–রামপুরহাট প্যাসেঞ্জারও। তিনপাহাড়–রাজমহল এবং রাজমহল–তিনপাহাড় রুটের একাধিক প্যাসেঞ্জার ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে।

বাঁধ বিপর্যয়ের জেরে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের রুট বদল করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র মেল, রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ফরাক্কা এক্সপ্রেস জামালপুর–মুঙ্গের–কাটিহার হয়ে চলবে। নিউ দিল্লি–মালদহ টাউন এক্সপ্রেসকেও এই রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভাগলপুর–রাঁচি বনাঞ্চল এক্সপ্রেস এবং জামালপুর–হাওড়া এক্সপ্রেস ভাগলপুর–দুমকা–রামপুরহাট হয়ে চলবে। গয়া–হাওড়া এক্সপ্রেস কিউল–ঝাঝা–আসানসোল হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে।

পরিষেবা সচল রাখতে সাহিবগঞ্জ–ভাগলপুর রুটে দুটি প্যাসেঞ্জার স্পেশাল চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টায় সাহিবগঞ্জ থেকে ট্রেন ছাড়বে। এছাড়া রাত ১০টায় ভাগলপুর থেকে সাহিবগঞ্জের উদ্দেশে একটি প্যাসেঞ্জার স্পেশাল চলবে।

বাঁধ বিপর্যয়ের কারণে কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আজিমগঞ্জ–ভাগলপুর প্যাসেঞ্জার বারহারওয়ায় গিয়ে যাত্রা শেষ করবে। কিউল–মালদহ টাউন ইন্টারসিটি চলবে সাহিবগঞ্জ পর্যন্ত। বর্ধমান–সাহিবগঞ্জ MEMU-র যাত্রাও তিনপাহাড়ে শেষ হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবর্তিত পরিষেবা বজায় থাকবে।

Leave a comment