জুরিখ থেকে দিল্লিগামী বিমানের উড়ানের আগে অ্যালকোহল পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেন এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলট। নিয়মিত পরীক্ষার সময় তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপরই তাঁকে বিমানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই পাইলটকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। ঘটনাটি নিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।
জানা গিয়েছে, জুরিখ বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটির রওনা দেওয়ার কথা ছিল। যাত্রা শুরুর আগে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট ফার্স্ট অফিসারের অ্যালকোহল পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর তাঁকে উড়ানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
বিকল্প পাইলটের ব্যবস্থা করে শেষ পর্যন্ত বিমানটি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। সংশ্লিষ্ট পাইলটকে পরে যাত্রী হিসেবে ভারতে ফেরানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। চূড়ান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করা হয় না। বিমান চালানোর আগে পাইলটদের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। কোনও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংস্থার নীতি অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
এই ঘটনার সূত্র ধরে এর আগে ঘটে যাওয়া আর একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের পাইলটের মাদক পরীক্ষায় সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্ট্যান্সের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সেই ঘটনায় বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যার সঙ্গে পরীক্ষার ফলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত হয়েছিল।
জুরিখের সাম্প্রতিক ঘটনায় ফের সামনে এসেছে উড়ানের আগে পাইলটদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্ব। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এয়ার ইন্ডিয়ার ওই পাইলটের বিরুদ্ধে কী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a comment