দুর্গাপুজোর আর একমাসও বাকি নেই। উৎসবের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। কোথাও নতুন পোশাক কেনাকাটা, কোথাও আবার মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। উপগ্রহ চিত্রে উত্তর আন্দামান সাগর সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্তের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া সংক্রান্ত মডেল অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের কাছাকাছি উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমেরিকান আবহাওয়া মডেল জিএফএস-এর পূর্বাভাসে সেই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে ভারতের মৌসম ভবনের তরফে এখনও ঘূর্ণিঝড় নয়, নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনার কথাই জানানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। এই নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে পরপর ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে রাজ্যের আবহাওয়ায়। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলিতেও রাজ্যের একাধিক এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, সৌরাষ্ট্রের নিম্নচাপ এলাকা থেকে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা রাঁচি ও দিঘার উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা রয়েছে, যা উত্তরবঙ্গ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এই দুই অক্ষরেখার প্রভাবেই রাজ্যে বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
শনিবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। রবিবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তার কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের ছয় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
কলকাতাতেও এদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৪.২ ডিগ্রিতে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ১১.৬ মিলিমিটার।

Leave a comment