বিপর্যস্ত নেপালের মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোগ নিল খড়গপুর ২ ব্লকের বাড়বাঁশী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। টিফিনের জন্য বরাদ্দ টাকা থেকে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করে তাঁরা গড়ে তুলেছিল ত্রাণ তহবিল। সেই তহবিলে জমা হওয়া ১০ হাজার টাকা দু’দিন আগে নেপাল সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৬ অগস্ট হড়পা বান এবং হিমবাহ হ্রদ গলার জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরই পড়ুয়াদের নিয়ে উদ্যোগী হন বাড়বাঁশী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রার্থনার সময় তিনি পড়ুয়াদের কাছে নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।

প্রধান শিক্ষকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পড়ুয়ারাই গড়ে তোলে ‘নেপাল বন্যাত্রাণ তহবিল’। এরপর নিজেদের টিফিনের খরচ থেকে প্রতিদিন সামান্য করে টাকা সরিয়ে ওই তহবিলে জমাতে থাকে তারা। কেউ দিয়েছে এক টাকা, কেউ দু’টাকা, আবার কেউ পাঁচ টাকা। পড়ুয়াদের এই উদ্যোগে পরে সামিল হন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরাও। অভিভাবকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এভাবেই ধীরে ধীরে তহবিলে জমা হয় ১০ হাজার টাকা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাধব মাইতি জানান, পড়ুয়াদের নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ত্রাণে দেওয়া বিষয়টিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। তাঁর কথায়, ছোট্ট এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই পড়ুয়ারা মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা পেয়েছে। তাঁদের উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অভিভাবকরাও তহবিলে সহযোগিতা করেছেন।

পড়ুয়াদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিজেদের প্রয়োজনের টাকা থেকে সামান্য অংশ বাঁচিয়ে বিপর্যস্ত দেশের মানুষের জন্য সাহায্য পাঠানোর এই প্রয়াস মানবিকতার নজির তৈরি করেছে।

Leave a comment