দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ আসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রফতানির জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে পুজোর মরসুমে বাংলাদেশি ইলিশ কেনার আশা করা ক্রেতাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির জন্য তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। অগস্ট মাসে কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য দফতরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে পুজোর আগে বাংলাদেশি ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে আমদানিকারকদের দাবি।
কিন্তু আলোচনার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ গুজরাট থেকে প্রায় ৫৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করে। ওই ইলিশের মধ্যে ডিম ভর্তি মাছও ছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপর ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির পারমিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের সরকার।
দুই বাংলার মানুষের কাছে বাংলাদেশি ইলিশের আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পর ২০১৮ সাল থেকে দুর্গাপুজোর আগে ফের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানো শুরু হয়। এরপর কয়েক বছর ধরে কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ পাওয়া গিয়েছে।
এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, হাতে সময় খুব কম। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সমুদ্রে ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে। তাই দ্রুত রফতানির অনুমতি না মিললে পুজোর বাজারে বাংলাদেশি ইলিশ পৌঁছনোর সুযোগ কমে যেতে পারে।
ফলে পুজোর পাতে পদ্মার ইলিশ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাঙালির নজর এখন বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। রফতানির অনুমতি মিলবে কি না, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কলকাতার বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের সরবরাহ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

Leave a comment