সবে গভীর নিম্নচাপের প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার থেকে আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার আশঙ্কা আপাতত কম বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, দক্ষিণ মায়ানমার এবং সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই আন্দামান সাগরের দিকে সরে এসে আরও স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার সেটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। এরপর সেটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহবিদদের অনুমান, পরবর্তী সময়ে উত্তর দিকে এগিয়ে সিস্টেমটি মায়ানমার ও বাংলাদেশ উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় পৌঁছতে পারে।

এই সিস্টেমের প্রভাবে মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। ওই এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই কারণে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তবে বাংলার জন্য আপাতত স্বস্তির খবরই রয়েছে। মায়ানমারের কাছে তৈরি হতে চলা এই নিম্নচাপের গতিপথ এমন যে পশ্চিমবঙ্গের উপর এর বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাতেও এর প্রভাব খুব একটা পড়বে না বলেই মনে করছে আবহাওয়া দফতর। 

ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ফের বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার আশঙ্কা আপাতত নেই।

তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে হাওয়া অফিস। নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তার উপর পরবর্তী আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।

এদিকে সোমবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার জন্য কোনও আলাদা সতর্কতা জারি করা হয়নি। উত্তরবঙ্গেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

Leave a comment