দুর্গাপুজোর আগে আসে পিতৃপক্ষ। চলতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে শুরু হচ্ছে পিতৃপক্ষ। চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদানের মতো বিভিন্ন আচার পালন করেন বহু মানুষ। সেই কারণেই পিতৃপক্ষ শুরুর আগে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার সময় পূর্বপুরুষদের মর্ত্যে আগমন ঘটে। তাঁদের স্মরণে গৃহে বিভিন্ন আচার পালনের আগে তাই বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখার কথা বলা হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে, ঘরের পরিবেশে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয়, জীর্ণ বা নষ্ট জিনিস নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। সেই ধারণা থেকেই পিতৃপক্ষের আগে কয়েকটি জিনিস বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রথমেই রয়েছে ভাঙা প্রতিমা বা জীর্ণ দেবদেবীর ছবি। ঠাকুরঘরকে বাড়ির পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কোনও প্রতিমা ভেঙে গেলে কিংবা পুরনো ছবি নষ্ট হয়ে গেলে তা রেখে না দিয়ে যথাযথ নিয়ম মেনে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে অর্ঘ্য নিবেদনের আগে ঠাকুরঘরের পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা ঘড়ি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় ঘড়ির সঙ্গে সময়ের গতিশীলতার সম্পর্ক রয়েছে। তাই নষ্ট বা বন্ধ ঘড়িকে স্থবিরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেটি সারিয়ে সচল করা অথবা বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করা হয়।
তৃতীয়ত, রান্নাঘরে পড়ে থাকা ভাঙা কিংবা চিড় ধরা বাসনপত্রও সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। অন্নকে পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই যে পাত্রে খাবার বা পানীয় রাখা হয়, সেটি অক্ষত ও পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে থাকা বাসন গৃহে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চতুর্থত, জং ধরা লোহার সামগ্রী কিংবা ক্ষয়ে যাওয়া ধাতব জিনিসও বাড়িতে জমিয়ে না রাখার কথা বলা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় এগুলিকে তামসিকতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পিতৃপক্ষের সময় গৃহের পরিবেশে সত্ত্বগুণ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে জং ধরা ও অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সরিয়ে ফেলার পরামর্শ রয়েছে।
পঞ্চমত, বাড়ির শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা, মলিন পাতা কিংবা পচে যাওয়া শাখাপ্রশাখাও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গাছপালাকে জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই প্রাণহীন ও শুকনো অংশ ছেঁটে ফেলে বাড়ির পরিবেশকে সজীব রাখার কথা বলা হয়।
এর পাশাপাশি বাড়ির অন্ধকার কোণ, আলমারি বা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত জায়গায় জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। ঘর পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় ধারণার অংশ; এগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

Leave a comment