পুজো মানেই ঠাকুর দেখা, নতুন জামাকাপড় আর পছন্দের খাবার নিয়ে হইচই। ষষ্ঠী থেকে দশমী, পাঁচ দিন ধরেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের মেজাজ। কেউ প্যান্ডেলে ঘুরে ফুচকা-রোল খান, কেউ আবার বাড়িতে লুচি, পোলাও আর মিষ্টি দিয়ে সারেন পেটপুজো। তবে দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু পুরনো লোকাচার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজোর পাঁচ দিনে পাঁচটি খাবার না খাওয়ার রীতি রয়েছে। ষষ্ঠীতে নিমপাতা, সপ্তমীতে তাল, অষ্টমীতে নারকেল, নবমীতে লাউ এবং দশমীতে কলমি শাক। এই নিয়মগুলির পিছনে রয়েছে নানা ধর্মীয় ধারণা।
ষষ্ঠীর পুজো দিয়েই শুরু হয় দুর্গোৎসবের মূল পর্ব। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নিমপাতা খেতে নেই। প্রচলিত ধারণায় এর সঙ্গে সন্তানের অমঙ্গলের আশঙ্কা জড়িয়ে রয়েছে। তবে এই বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পুজোর নানা আচার পালিত হয়। এই দিনে তাল না খাওয়ার কথাও প্রচলিত রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, সপ্তমীতে তাল খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। যদিও এই ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
মহাষ্টমীর অঞ্জলি ও ভোগকে ঘিরে থাকে বিশেষ আয়োজন। তবে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নারকেল খাওয়া উচিত নয়। কথিত রয়েছে, অষ্টমীতে নারকেল খেলে বুদ্ধি বা বিচারবোধের ক্ষতি হতে পারে। এই ধারণা ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ, প্রমাণিত স্বাস্থ্যতথ্য নয়।
মহানবমীতে লাউ না খাওয়ার রীতিও অনেকের কাছে পরিচিত। কিছু লোকবিশ্বাসে এই দিনে লাউ খাওয়াকে পাপের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে লাউ পুষ্টিকর সবজি। নবমীতে লাউ খেলেই অমঙ্গল হবে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পুজোর মূল পর্ব। প্রচলিত লোকাচার অনুযায়ী, এই দিনে কলমি শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় একে গোবধের পাপের সমতুল্য বলে মনে করা হয়।
এমন বিশ্বাস শুধু দুর্গাপুজোর পাঁচ দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু প্রচলিত সূত্রে তৃতীয়ায় পটল, চতুর্থীতে মূলো, পঞ্চমীতে বেল এবং একাদশীতে শিম খাওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধের উল্লেখ রয়েছে। তবে পরিবার ও অঞ্চলভেদে এই নিয়মের পার্থক্য দেখা যায়।
ছোটবেলা থেকে বাড়ির বড়দের মুখে এই নিয়মগুলির কথা শুনে থাকেন অনেকে। কেউ তা মেনে চলেন, কেউ আবার বিশেষ গুরুত্ব দেন না। নির্দিষ্ট দিনে এই খাবারগুলি খেলেই অমঙ্গল হবে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই লোকাচার পালন করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

Leave a comment