দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে বসেছিলেন ৭০ বছরের মেকু বিবি। একাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে ঘুরেও মেলেনি সমাধান। অবশেষে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক ‘ডিসেক কর্নিয়া’ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর চোখে ফিরল দৃষ্টি। হাসপাতালের দাবি, সেখানে এই প্রথম সফলভাবে এই ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের অগ্রদ্বীপের গাজিপুরের বাসিন্দা মেকু বিবির চোখের সমস্যা শুরু হয় প্রায় ১৬ বছর আগে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তাঁর ছানি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ডান চোখে আর দেখতে পাননি তিনি। এরপর সমস্যা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে ইন্দোরেও চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভাষাগত সমস্যা এবং চিকিৎসার খরচের কারণে সেখানে আর যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর দীর্ঘদিন বাড়িতেই ছিলেন বৃদ্ধা। দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি চোখে যন্ত্রণা এবং অতিরিক্ত জল পড়ার সমস্যাও ছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে যান মেকু বিবি। বিভাগীয় প্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের টিমের সঙ্গে আলোচনা করে সহকারী অধ্যাপক দত্তাত্রেয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মেকু বিবির ডান চোখে ‘ডিসেক কর্নিয়া’ প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসক দত্তাত্রেয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ছানি অস্ত্রোপচারের পর কর্নিয়ার একটি স্তরে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আধুনিক পদ্ধতিতে সেই স্তর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দুর্গাপুরের একটি সংস্থার দেওয়া কর্নিয়া অস্ত্রোপচারে ব্যবহার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন মেকু বিবি। চার দিন পর চোখ খুলেই ফের দেখতে পান চারপাশের সবকিছু। বর্ধমান মেডিক্যালের সুপার শান্তনু সেন জানিয়েছেন, বিনামূল্যেই এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর দৃষ্টি ফিরে পেয়ে আপ্লুত বৃদ্ধা। তিনি জানিয়েছেন, আবার দেখতে পাবেন—এমন আশা একসময় ছেড়ে দিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেকু বিবি ও তাঁর পরিবার।

Leave a comment