উৎসব, পরীক্ষা কিংবা বড় কোনও জনসমাবেশ। এমন নানা কারণে আচমকাই স্টেশনে বেড়ে যেতে পারে যাত্রীর চাপ। সেই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবার আগাম প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে রেল সুরক্ষা বাহিনী বা RPF। সম্ভাব্য হাই-ফুটফল ইভেন্টগুলির তথ্য আগে থেকেই নথিভুক্ত করার জন্য চালু করা হচ্ছে একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্টার।
‘DS-12 E-Forecasting Register for High-Footfall Events’ বা EFRR নামের এই ডিজিটাল রেজিস্টারে কোনও অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোন স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি হতে পারে, সেই তথ্য আগেভাগেই তুলে রাখা হবে। ফলে পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা যাবে।
এই ডেটার ভিত্তিতে স্টেশনে অতিরিক্ত RPF বাহিনী মোতায়েন, যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ ভিড় বাড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এবার সম্ভাব্য পরিস্থিতি আঁচ করেই প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্য রেলের।
কোন কোন অনুষ্ঠানের তথ্য থাকবে এই ডিজিটাল রেজিস্টারে? দুর্গাপুজো, হোলি, দীপাবলি, ছটপুজো, বড়দিনের মতো উৎসবের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মেলা, পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষা, রাজনৈতিক সভা, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি এবং বড় জনসমাবেশের তথ্যও রাখা হবে। পর্যটনের বিশেষ মরশুমের কারণে কোনও স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড়ের সম্ভাবনা থাকলেও তা রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট তারিখে হওয়া উৎসবের ক্ষেত্রে অন্তত ৬০ দিন আগে, সম্ভব হলে তারও আগে তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। মেলা, পরীক্ষা, রাজনৈতিক সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে অন্তত তিন সপ্তাহ আগে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। তবে কোনও অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে ঘোষণা হলে, নির্ভরযোগ্য তথ্য হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা রেজিস্টারে তোলার নির্দেশ রয়েছে।
RPF সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে অনেক সময় ভিড় বৃদ্ধির খবর যথেষ্ট আগে পাওয়া যেত না। ফলে যাত্রীসংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, তার সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া এবং বিভিন্ন স্তরে তথ্যের সমন্বয় করেও সমস্যা হত। সেই জায়গা থেকেই এবার আগাম তথ্য সংগ্রহ ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই কাজে RPF-এর Special Intelligence Branch বা SIB-এর কর্মীদেরও বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য হাই-ফুটফল ইভেন্ট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলেই তা EFRR-এ নথিভুক্ত করতে হবে।
শুধু অনুষ্ঠান শুরুর আগে তথ্য সংগ্রহেই এই ডিজিটাল রেজিস্টারের ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকছে না। সম্ভাব্য ভিড়ের পূর্বাভাস, তার ভিত্তিতে নেওয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার তথ্যও সেখানে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো যাবে।

Leave a comment