চুলের ঘনত্ব, উজ্জ্বলতা ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়া জরুরি। সেই কারণে নানা ধরনের বীজ এখন স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে জনপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি দাবি করা হচ্ছে, পাঁচ ধরনের বীজ নিয়মিত খেলেই মাত্র ১০ দিনে নতুন চুল গজাতে শুরু করবে। তবে এমন দ্রুত ফলের কোনও নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং এই বীজগুলিতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।

কুমড়োর বীজে জিঙ্ক ও আয়রন

কুমড়োর বীজে জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। শরীরে কিছু পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুলের স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে কুমড়োর বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন ই

সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। এটি সুষম খাবারের মাধ্যমে শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি যোগ করার একটি উপায়। তবে সরাসরি চুল গজানোর উপাদান হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক নয়।

তিসি ওমেগা-৩-এর উৎস

তিসিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইবার। হালকা ভেজে গুঁড়ো করে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। দই বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও নেওয়া সম্ভব।

তিলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ

তিলের মধ্যে আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও কপার রয়েছে। নিয়মিত সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত তিল খেলে খাদ্যতালিকায় এই পুষ্টি উপাদানগুলি যোগ হতে পারে। তবে তিল খেলেই চুল পাকা বন্ধ হবে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

চিয়া সিডে প্রোটিন ও ফাইবার

চিয়া সিডে ওমেগা-৩, প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। জলে ভিজিয়ে অথবা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বেশি পরিমাণে না খেয়ে পরিমিত রাখা উচিত।

প্রতিদিন পাঁচ ধরনের বীজ একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বিভিন্ন দিনে দুই বা তিন ধরনের বীজ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিম, মাছ, ডাল, দুধজাতীয় খাবার, শাকসবজি ও ফলের মতো পুষ্টিকর খাবারও প্রয়োজন।

চুলের বৃদ্ধি একটি ধীর প্রক্রিয়া। তাই মাত্র ১০ দিনে নতুন চুলে মাথা ভরে যাওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও হরমোন, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে চুল পড়তে পারে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়লে কারণ জানতে চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

Leave a comment