রান্না শেষ করে খেতে গিয়ে হঠাৎ মনে হল, নুনটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছে! এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই মাথায় হাত পড়ে। এতক্ষণ ধরে রান্না করার পর খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার চিন্তা স্বাভাবিক। তবে নুন বেশি হয়ে গেলেই যে রান্না ফেলে দিতে হবে, তা নয়। কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে রান্নার স্বাদ অনেকটাই ঠিক করা যায়।
মাছের ঝোল, ডিমের ঝোল বা অন্য কোনও পাতলা তরকারিতে নুন বেশি হলে আলু যোগ করতে পারেন। কয়েক টুকরো আলু দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। আলু ঝোল ও তার সঙ্গে থাকা স্বাদের একটা অংশ শুষে নেয়। রান্নার পর আলু তুলে রাখবেন, নাকি তরকারির সঙ্গে পরিবেশন করবেন, সেটা আপনার ইচ্ছা।
ডাল নোনতা হয়ে গেলে শুধু জল ঢেলে দেওয়ার বদলে অল্প অল্প করে জল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। বাড়িতে নুন ছাড়া রান্না করা ডাল থাকলে সেটাও মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে ডালের পরিমাণ বাড়বে এবং নোনতা ভাবও কমে আসবে।
কষা মাংস বা পনিরের গ্রেভিতে নুন বেশি হলে সামান্য দই, দুধ বা ক্রিম কাজে লাগতে পারে। এতে ঝোলের স্বাদ কিছুটা মোলায়েম হয়। তবে দই সরাসরি বেশি আঁচে দেওয়া ঠিক নয়। আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে মেশালে গ্রেভি ভালো থাকবে।
শুকনো সবজি বা ভাজিতে সমস্যা হলে আরও কিছু নুন ছাড়া সবজি যোগ করা যায়। পেঁয়াজ বা টমেটো আলাদা করে ভেজে মিশিয়ে দিলেও স্বাদে বেশ কিছুটা পরিবর্তন আসে। রান্নার ধরন অনুযায়ী অল্প লেবুর রসও ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনও কোনও পদে সামান্য চিনি নোনতা স্বাদের ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে।
তবে এসব উপায় কাজে লাগানোর সময় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একবারে অনেকটা কিছু না দিয়ে অল্প করে যোগ করে স্বাদ পরীক্ষা করুন। কারণ নুনের সমস্যা সামলাতে গিয়ে আবার অন্য কোনও উপকরণ বেশি হয়ে গেলে রান্নার আসল স্বাদটাই বদলে যেতে পারে। একটু ধৈর্য ধরে এগোলেই শেষ মুহূর্তে নোনতা হয়ে যাওয়া রান্নাও বেশ ভালোভাবেই সামলে নেওয়া সম্ভব।

Leave a comment