বৃহস্পতিবার রেজিনগর, আর তার পরের দিন নন্দীগ্রাম। উপনির্বাচনের প্রচারে নিজের ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরুলিয়ার সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর আবেদন, এমন ভোট দিতে হবে যাতে প্রতিপক্ষের জামানত জব্দ হয়।

শুভেন্দুর কথায়, “তৃণমূলের পাপের সীমা নেই। এমনভাবে ভোট করুন, যাতে এই ছিন্নমূলের লোকেরা প্রত্যেকের জামানত জব্দ হয়, একটারও যেন জামানত না থাকে।” দুর্নীতি প্রসঙ্গ টেনে সভা থেকে ‘বড় চোর’ নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “সুমিত রায়রা জেলে গেছে, এবার বড় চোরও জেলে যাবে।”

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী ছিলেন শুভেন্দু। পরে ভবানীপুর আসন রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কেন্দ্রেই এবার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর প্রয়াত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।

প্রচারে গিয়ে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেট নিতে গিয়েই বলেছিলাম তৃণমূলের নাম, নিশান থাকবে না।” এরপরই ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ‘চোরামূল’ বলেও কটাক্ষ শোনা যায় তাঁর মুখে।

নিহত চন্দ্রনাথ রথের প্রসঙ্গও ফের তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। 

তাঁর বক্তব্য, চন্দ্রনাথ তাঁর সহকারী ছিলেন বলেই তাঁকে খুন হতে হয়েছে। সেই ঘটনার ‘গণতান্ত্রিক বদলা’ আগামী ৬ অক্টোবর ভোটের মাধ্যমে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধানকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সঞ্চিতা নিজের মনোনয়ন তুলে নিয়ে ‘ভোকাট্টা’ হয়ে গিয়েছেন। একইসঙ্গে বাম এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এরপর নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আগে যা সাহায্য করতাম, তার তিনগুণ এখন করব।” নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ-বাজকুল রুটে ট্রেন চালুর কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি ওড়িশা কোস্ট ক্যানেল সংস্কার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের কথাও সভা থেকে তুলে ধরেন শুভেন্দু।

Leave a comment