পুজোর আগে ত্বকের যত্নে ব্যস্ত অনেকেই। মুখটা যেন সতেজ দেখায়, ফোলাভাব কম থাকে সেই চেষ্টায় কেউ ডায়েট করছেন, কেউ আবার নিয়ম করে স্কিনকেয়ার করছেন। এর পাশাপাশি ফেস রোলার ও গুয়া শার মতো বিউটি টুলও এখন বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে মুখের গড়ন একটু স্পষ্ট দেখানোর আশায় এগুলি ব্যবহার করছেন অনেকে। 

এনিয়ে একটি গবেষণায় ৩৪ জন মহিলাকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁদের দু’টি দলে ভাগ করা হয়। একটি দল টানা আট সপ্তাহ প্রতিদিন গুয়া শা ব্যবহার করেন। অন্য দল ব্যবহার করেন ফেসিয়াল রোলার। নির্দিষ্ট সময় পর দু’টি দলের মুখের আকৃতিতেই সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেন গবেষকরা।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, গুয়া শা ব্যবহারকারীদের চোয়ালের অংশে প্রায় ২ মিলিমিটার পর্যন্ত পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। ফেস রোলার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রায় ৩ মিলিমিটার। অর্থাৎ পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, তবে তা খুব বেশি নয়। তাই ফেস রোলার ব্যবহার করলেই মুখের গড়ন আমূল বদলে যাবে বা স্থায়ী ভাবে জ-লাইন স্পষ্ট হয়ে উঠবে, এমনটা বলা যায় না।

ফেস রোলার মূলত মুখে হালকা ম্যাসাজের কাজ করে। ত্বকের উপর দিয়ে রোলার চালানোর ফলে রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখে হালকা ফোলাভাব থাকলে রোলার ব্যবহারের পর তা কিছুটা কম দেখাতে পারে। সেই সঙ্গে মুখে সতেজ ভাবও আসতে পারে।

গুয়া শা দিয়েও মুখের বিভিন্ন অংশে ম্যাসাজ করা হয়। হালকা চাপ দিয়ে ব্যবহার করলে মুখের পেশির টান কিছুটা কমতে পারে। সারাদিনের কাজের পর ক্লান্ত মুখে এই ম্যাসাজ আরামও দিতে পারে। তবে গুয়া শা ব্যবহার করে মুখের মেদ দ্রুত কমানো বা অল্প সময়ে ধারালো জ-লাইন তৈরি করা সম্ভব—এমন প্রমাণ নেই।

ফেস রোলার বা গুয়া শা ব্যবহারের আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। তারপর সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ধীরে ধীরে টুলটি চালাতে পারেন। মুখের মাঝখান থেকে বাইরের দিকে এবং গলা থেকে ওপরের দিকে হালকা হাতে ব্যবহার করাই ভালো। বেশি চাপ দিয়ে ঘষার দরকার নেই।

যাঁদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাঁদের একটু বেশি সতর্ক থাকা উচিত। ব্যবহারের পর জ্বালা, ব্যথা বা অতিরিক্ত লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

তাই পুজোর আগে ফেস রোলার বা গুয়া শা ব্যবহার করা যেতে পারে ত্বকের যত্নের অংশ হিসেবে। তবে শুধু এই টুলের উপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, জল খাওয়া, সুষম খাবার এবং নিয়মিত স্কিনকেয়ারের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

Leave a comment