তিন বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন পান্ডাপাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মুন্নি রায়। তারপর থেকেই হাঁটাচলায় সমস্যা। একটু নড়াচড়া করলেই যন্ত্রণা হত। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে সেই চিকিৎসা করানো হয়ে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধায় জলপাইগুড়ির একটি নার্সিংহোমে বিনা খরচে হল তাঁর অস্ত্রোপচার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চোট পাওয়ার পর স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে দেখানো হয়েছিল মুন্নিকে। পরে তাঁরা অন্য রাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু টোটো চালিয়ে সংসার চালান তাঁর ছেলে সঞ্জিত রায়। বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার খরচ জোগানো তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়িতেই কষ্টে দিন কাটছিল মুন্নির।
সঞ্জিত জানান, মায়ের অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা কোথা থেকে আসবে, সেটাই বুঝতে পারছিলেন না তাঁরা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করার কথাও ভাবতে হয়েছিল। এর মধ্যেই আয়ুষ্মান কার্ড হাতে পান তাঁরা। এরপর কার্ড নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন অর্থোপেডিক সার্জেন ডাঃ কমলেশ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিউরো সার্জন ডাঃ বিগান কামদার। চিকিৎসকরা জানান, মুন্নির হাড়ের উপর অতিরিক্ত হাড় তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে নার্ভে চাপ পড়ছিল। হাঁটাচলা বা নড়াচড়া করলেই যন্ত্রণা হচ্ছিল।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকদের দাবি, আয়ুষ্মান কার্ডের আওতায় জলপাইগুড়ি জেলায় এই ধরনের নিউরো সার্জারি এই প্রথম। অস্ত্রোপচারের পর এখন স্থিতিশীল রয়েছেন মুন্নি। কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দীর্ঘদিন পর মায়ের চিকিৎসা হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সঞ্জিত ও তাঁর পরিবার। যে অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে একসময় বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রির কথাও ভাবতে হয়েছিল, সেই চিকিৎসাই এবার আয়ুষ্মান কার্ডে বিনা খরচে হওয়ায় দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে পরিবারের।

Leave a comment