বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধৃত যুবকের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রহ্লাদ। বাধা পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। পালটা গুলি চালায় পুলিশও। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

রবিবার গাইঘাটায় এক নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেহটি উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগে প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তিনি ওই পরিবারেরই আত্মীয়। ঘটনার পর অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে পুলিশ। সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য, সেখান থেকে ফেরার সময় বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। বাধা দিতে গেলে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান অভিযুক্ত। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি পুলিশের। এরপর আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

এই ঘটনার সঙ্গে গত জুলাই মাসে বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের মামলার মিল রয়েছে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলেরও মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। বাধা পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পালটা গুলি চালায় পুলিশ।

বারুইপুরের সেই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি হাই কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল। গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফের এনকাউন্টার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছে। তবে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিও তদন্ত করে দেখা জরুরি।

Leave a comment