স্ত্রীর সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল স্বামীর। তা নিয়ে আগে থেকেই সংসারে অশান্তি চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের ওই যুবককে নিজের কোয়ার্টারে দেখতে পান স্বামী। এরপরই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই যুবককে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস ওল্ড কলোনিতে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত মন্টু যাদবের খোঁজ চলছে।
মৃতের নাম অশোক কুমার সিং ওরফে ভিকি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিল্লিতে থাকেন। তবে মাঝেমধ্যেই আসানসোলের হিন্দুস্তান কেবলস কলোনিতে যাতায়াত ছিল অশোকের। ওই কলোনির একটি কোয়ার্টারে থাকেন মন্টু যাদব। স্থানীয়দের দাবি, মন্টুর স্ত্রীর সঙ্গে অশোকের ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করতেন মন্টু। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও হত বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের মন্টুর কোয়ার্টারে যান অশোক। তাঁকে সেখানে দেখে ক্ষুব্ধ হন মন্টু। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। অভিযোগ, এরপর অশোককে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। মন্টুর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা সেখানে পৌঁছে যান। তাঁরাই গুরুতর আহত অবস্থায় অশোককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রথমে তাঁকে পিঠাকেয়ারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় অশোকের। খবর পেয়ে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। হাসপাতালেও যান তদন্তকারীরা।
পুলিশ এই ঘটনায় সুরেন্দ্র যাদব ও দীপক যাদব নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মন্টু যাদবের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্টুর স্ত্রীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। অশোকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ এবং ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ধৃত দু’জনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়।

Leave a comment