কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের বেলেঘাটা–সল্টলেক অংশের নির্মাণকাজে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বেলেঘাটা থেকে সল্টলেক আইটি সেন্টার পর্যন্ত অংশে ভায়াডাক্ট এবং ব্যালাস্টলেস ট্র্যাকের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথম ‘পুশ ট্রলি’ পরিদর্শন করা হয়েছে। এই পরিদর্শন সফল হওয়ায় এবার বৈদ্যুতিক কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
বেলেঘাটা–আইটি সেন্টার অংশটি কবি সুভাষ–জয় হিন্দ বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের অন্তর্গত। প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি কয়েকটি পর্যায়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কবি সুভাষ থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত অংশে মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে।
এবার বেলেঘাটা থেকে আইটি সেন্টার পর্যন্ত অংশ চালুর প্রস্তুতি এগোচ্ছে। এই অংশে পরিষেবা শুরু হলে দক্ষিণ কলকাতা এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের মধ্যে মেট্রো যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে। সেক্টর ফাইভের অফিসপাড়ায় কর্মরত যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই নতুন সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এই অংশের কাজের পথে দীর্ঘদিন অন্যতম বড় বাধা ছিল চিংড়িহাটা। নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে মেট্রোর কাজ দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর চিংড়িহাটা এলাকায় নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হওয়ার পর এবার ট্র্যাক পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
পুশ ট্রলি দিয়ে পরিদর্শনের সময় ট্র্যাক এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই ধাপ শেষ হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি সিগন্যালিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে পুশ ট্রলি পরিদর্শন শেষ হওয়া মানেই যাত্রী পরিষেবা অবিলম্বে চালু হচ্ছে না। বৈদ্যুতিক কাজ শেষ করার পর পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রো রেক চালানো, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার মতো ধাপ রয়েছে। সেগুলি সম্পূর্ণ হওয়ার পরই বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
অরেঞ্জ লাইনের সম্পূর্ণ করিডর চালু হলে কবি সুভাষ থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে। কলকাতার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকার যোগাযোগেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

Leave a comment