স্কুলে মিড-ডে মিলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবার স্থানীয় প্রশাসনের উপরও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিএম পোষণ প্রকল্পের খাবারের মান বা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনও অভিযোগ সামনে এলে শুধু সমীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন দফতরে পাঠালেই হবে না, স্থানীয়স্তরেই তার প্রাথমিক ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সেই পদক্ষেপের রিপোর্টও রাখতে হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, ২৩টি জেলার ৫,১৪৮টি স্কুলে ইতিমধ্যেই পরিদর্শন ও সমীক্ষা শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীনে থাকা ‘সোশ্যাল অডিট ইউনিট’ এই কাজ করছে। সমীক্ষা শুরুর আগে বিকাশ ভবনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজের পরিধি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মিড-ডে মিলের খাবার কতটা মানসম্মত, রান্না এবং পরিবেশনের জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকছে কি না, পড়ুয়াদের নিয়ম মেনে খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না এইসব বিষয় দেখা হবে। প্রকল্পের টাকা ব্যবহারে কোনও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তার সত্যতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

সমীক্ষার সময় অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলার নির্দেশ রয়েছে। স্কুলে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় কি না, খাবারের মান নিয়ে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, কিংবা পরিষেবা সংক্রান্ত অন্য কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না সেসব বিষয়ে তাঁদের মতামত নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্কুল বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে।

এতদিন সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর রিপোর্ট বিকাশ ভবনে পাঠানো হতো। রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হত। এবার সেই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে আরও আগে যুক্ত করা হচ্ছে। কোনও সমস্যা চিহ্নিত হলে গ্রাম পঞ্চায়েত বা জেলা প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক পদক্ষেপ করতে পারবে। ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময় কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থায় পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বিডিও এবং জেলাশাসকের দফতরও যুক্ত থাকবে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিশেষ দলের সহযোগিতায় ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে সামাজিক সমীক্ষা চলবে। সমীক্ষায় কী সমস্যা পাওয়া গেল, তার পাশাপাশি সেই সমস্যা নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, এবার সেই বিষয়টিও নজরে থাকবে।

Leave a comment