শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ এবং নথি যাচাইয়ের দিনক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংশোধিত প্রাথমিক তালিকায় নতুন করে জায়গা পাওয়া প্রার্থীদের এই প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে। বৃহস্পতিবার থেকেই কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ইন্টিমেশন লেটার ডাউনলোড করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর বাংলা বিষয়ের ইন্টারভিউ হবে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ৮ ও ৯ অক্টোবর ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। ইতিহাসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৯ অক্টোবর। সংস্কৃত বিষয়ের ইন্টারভিউ হবে ৯, ১২ এবং ১৩ অক্টোবর। ইংরেজির ইন্টারভিউ ১২ অক্টোবর এবং গণিতের ইন্টারভিউ হবে ১৩ অক্টোবর।

নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে কমিশন। অনলাইন আবেদনের সময় জমা দেওয়া তথ্যের সমর্থনে সমস্ত মূল নথি সঙ্গে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার টেট নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। বিকাশ ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি জানান, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো কিংবা সরস্বতীপুজোর মতো প্রতি বছর নিয়ম করে টেট নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সেই নিয়োগ পর্ব শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্প নিয়েও এদিন একাধিক তথ্য তুলে ধরেন দীপক বর্মন। তাঁর বক্তব্য, কোনও পড়ুয়া মিড-ডে মিল চাইলে সংশ্লিষ্ট স্কুলকে সেই খাবারের ব্যবস্থা করতেই হবে। সম্প্রতি কিছু স্কুলে সফটওয়্যার আপডেটের কারণে টাকা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, এসএনএএস পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরেই কয়েক দিন এই সমস্যা হয়েছিল। তবে গত তিন দিনে সব স্তরে বরাদ্দের টাকা পৌঁছে গিয়েছে।

যদিও প্রায় ৮১ হাজার স্কুলের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে টাকা পৌঁছতে দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলের কুক কাম হেল্পারদের জন্য ৪২৪.৪৩৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রান্নার খরচের জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে অক্টোবর পর্যন্ত মিড-ডে মিল পরিষেবা চালাতে স্কুলগুলির অর্থের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি।

পাশাপাশি প্যারাটিচার, এমএসকে, এসএসকে-সহ বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মীদের জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীপক বর্মন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Leave a comment