কাশী বিশ্বনাথ দর্শন, গঙ্গার ঘাটে নৌকাবিহার কিংবা সন্ধ্যার আরতি বারাণসীতে বাঙালি পর্যটকদের ভিড় সারা বছরই থাকে। অনেকেই কয়েক দিন থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। তাঁদের থাকার সুবিধার জন্য এবার বারাণসীতে আধুনিক অতিথিশালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোনারপুরার কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বরে প্রায় ২ একর জমিতে এই অতিথিশালা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯ তলা ভবন তৈরি হবে। সঙ্গে থাকবে ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো। ভবনে ৬০টি গেস্ট রুম এবং ১০টি বিলাসবহুল স্যুট থাকবে। রেস্তরাঁ, কফি শপ, ব্যাঙ্কোয়েট হল, জিম ও লাইব্রেরিও থাকবে সেখানে। পর্যটকদের গাড়ি রাখার জন্য বড় পার্কিং জোন তৈরির কথাও রয়েছে।

তবে নতুন ভবনের পাশাপাশি পুরনো কালীবাড়ির চেহারাও ধরে রাখতে চাইছে রাজ্য। চত্বরের হাওয়ামহল সংস্কার করে বিলাসবহুল স্যুট তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। প্রাচীন কালীমন্দির এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণ নিয়েও ভাবা হয়েছে।

অতিথিশালায় বাংলার সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কথাও রয়েছে। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত থাকবে সেই তালিকায়। কোচবিহারের রাজপরিবারের ঐতিহ্যও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে। অতিথিশালা চালু হলে থাকার সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত জায়গাটি ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটন দফতরের আধিকারিক এবং বারাণসী জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের জমি, মন্দির চত্বর এবং নির্মাণের সম্ভাব্য জায়গা ঘুরে দেখা হয়। জমির অবস্থা এবং মন্দির সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে বারাণসী সফরে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের জমিতে থাকা কালীমন্দির সংস্কার এবং ওই চত্বরে পশ্চিমবঙ্গ ভবন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। বুধবার কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বর পরিদর্শন করেন রাজ্যের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা।

Leave a comment