বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের এক নাবালিকা। কিন্তু সেই বেরোনোই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। অভিযোগ, পথ আটকিয়ে ওই নাবালিকা ও তার ১৬ বছরের বন্ধুকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সেখানে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তার বন্ধুকেও মারধর এবং যৌন হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ফরিদাবাদ পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট। ওই দিন বন্ধুর সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছিল নাবালিকা। কিছুটা যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। এরপর জোর করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় দু’জনকে। সেখানকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভিতরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই সময় সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছিলেন দু’জনেই। কিন্তু আশপাশে লোকজন না থাকায় তাঁদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর আতঙ্কে বিষয়টি কিছুদিন গোপন ছিল। পরে পরিবারের কাছে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় একটি আবাসনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের অনুমান, ঘটনায় আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি নাবালিকা ও তার বন্ধুর বক্তব্য, ঘটনাস্থলসহ অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফরিদাবাদের এই ঘটনা সামনে আসায় দিল্লি-এনসিআর এলাকায় নাবালক-নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে দিল্লির কালকাজি এলাকাতেও এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফরিদাবাদের ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Leave a comment