চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিককে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন ২৯ বছরের অর্চনা চৌধুরী মালিক। কিন্তু প্রেমিক বিবাহিত। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ। শনিবার রাতেও ভিডিও কলে ঝগড়া হয় তাঁদের। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই হায়দরাবাদের মাধাপুরে নিজের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল অর্চনার ঝুলন্ত দেহ। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
অর্চনার বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। কাজের সূত্রে হায়দরাবাদে থাকতেন তিনি। সেখানকার একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন তরুণী। ওই সংস্থারই সহকর্মী বিমলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত চার বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। তবে বিমল বিবাহিত হওয়ায় বিয়ে নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার রাতে বিমলকে ভিডিও কল করেন অর্চনা। সেই সময় মায়ের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিয়ের কথা উঠতেই দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন অর্চনা। প্রেমিককে বিয়ে না করলে চরম পদক্ষেপ করবেন বলেও জানান তিনি। এরপর থেকেই অর্চনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না বিমল।
বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ মাধাপুরে অর্চনার ফ্ল্যাটে পৌঁছন বিমল। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনও উত্তর না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তিনি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢোকে। সেখান থেকেই অর্চনার দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানো হয়েছে।
অর্চনার মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপড়েন এবং ঘটনার আগে ভিডিও কলে কী কথা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment