আচমকাই শেষ হল নানা পাটেকরের অভিনয় জীবন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ার বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন নানা পাটেকর। তাঁকে সেখান থেকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান। কয়েক দিন আগেই একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা। ফলে আচমকা তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে স্তম্ভিত সহকর্মী এবং অনুরাগীরা।

নানার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের মতো স্বতন্ত্র অভিনেতা খুব বেশি নেই। যে চরিত্রেই অভিনয় করেছেন, নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। সেই কাজ আগামী দিনেও দর্শকদের মনে থেকে যাবে।

নানা নিজের মতামত নিয়েও কখনও রাখঢাক করতেন না। যা মনে করতেন, তা প্রকাশ্যে বলতে পিছপা হতেন না। হিন্দি এবং মারাঠি ছবিতে তাঁর দীর্ঘ কাজের কথাও স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নানার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। 

অন্যদিকে, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নানার শেষকৃত্য হবে বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। অভিনেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তাঁর কথায়, নানা পাটেকরের বেশ কিছু চরিত্র দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য তাঁর কাজের কথাও স্মরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

থিয়েটার দিয়ে অভিনয়ের শুরু নানার। সত্তরের দশকে মঞ্চে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। পরে মারাঠি ছবির পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’ থেকে ‘আব তক ছাপ্পান’— নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কখনও কঠিন পুলিশ অফিসার, কখনও আবার সমাজের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা মানুষের চরিত্রে দর্শকদের সামনে এসেছেন তিনি।

অভিনয়ের বাইরেও নানা পাটেকরকে সমাজসেবার কাজে দেখা গিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন তিনি। রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দেননি কখনও। তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন।

Leave a comment