ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন সূচি ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার পর আবেদন ও আপত্তি খতিয়ে দেখে আগামী ৪ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আগামী বছরের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতা নির্ধারণের দিন ধরে এই কাজ চলবে। তবে যাঁরা ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল, ১ জুলাই কিংবা ১ অক্টোবর ভোটার হওয়ার যোগ্য হবেন, তাঁরাও আগাম নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২ নভেম্বরের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলির পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নাম তোলা, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো এবং তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। জমা পড়া আবেদন ও আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে। তার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ হবে।
ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম, একাধিক জায়গায় একই ভোটারের নাম এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তবে যাচাই না করে কোনও নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় শুনানিও করতে হবে। মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া অন্য কারণে কারও নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব থাকলে তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে নোটিস পাঠাতে হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র নিয়ে কমিশনের নির্দেশ, একটি কেন্দ্রে ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা যাবে না। ভোট দিতে যাওয়ার জন্য কাউকে যাতে দুই কিলোমিটারের বেশি পথ যেতে না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। একই পরিবারের সদস্যদের একই ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার একই অংশে রাখার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নিজেদের নাম রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ভোটাররা। নাম না থাকলে বা তথ্যে ভুল থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জানানো যাবে। সেই আবেদনগুলির নিষ্পত্তির পর ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

Leave a comment