সংসারের খরচ সামলে পুজোর জন্যও টাকা জমাচ্ছেন গ্রামের মহিলারা। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের একাংশ তাঁরা তুলে দিচ্ছেন লক্ষ্মীপুজোয়। বীরভূমের পুরন্দরপুরের আদিরেপাড়া সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজোয় এ বার সেই অনুদানই বড় ভরসা উদ্যোক্তাদের। পুজোর মণ্ডপে নজর কাড়বে ২৫ ফুটের লক্ষ্মী ও অন্নপূর্ণার যুগল মূর্তি।

পুরন্দর বিধান স্মৃতি সঙ্ঘের উদ্যোগে ৩৮ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, স্থানীয় মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকে। সেই টাকা থেকেই কেউ কেউ পুজোর জন্য স্বেচ্ছায় অনুদান দিয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছে অন্যদের সাহায্যও।

বছরের পর বছর বড় হয়েছে পুজোর প্রতিমা। উদ্যোক্তা বুদ্ধদেব সাধু জানান, পুজোর ৩৫তম বছরে লক্ষ্মীর ২২ ফুটের প্রতিমা তৈরি হয়েছিল। পরের বছর প্রতিমার উচ্চতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ ফুট। তার পরের বছর লক্ষ্মীর পাশে জায়গা করে নেন নারায়ণ। এ বার লক্ষ্মীর সঙ্গে থাকছেন অন্নপূর্ণা। দুই দেবীর যুগল মূর্তিই এ বারের বিশেষ আকর্ষণ।

এই পুজো দেখতে প্রতি বছর বীরভূমের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন। ঝাড়খণ্ড থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। এ বারও পুজো ঘিরে ভালো সমাগমের আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

লক্ষ্মী ও অন্নপূর্ণাকে একসঙ্গে রাখার পিছনে রয়েছে পুরাণের কাহিনি। কথিত আছে, দেবী লক্ষ্মী পাতালে আশ্রয় নেওয়ার পর তিন লোকে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। পরে মহাদেবের নির্দেশে ধনলক্ষ্মী কাশীতে গিয়ে অন্নপূর্ণার কাছে অন্ন চান। তাঁর দানেই ফের সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে জগৎ। সেই কাহিনিই প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী অনিল বাগদি বলেন, দুই দেবীর যুগল মূর্তি তৈরি করতে এক মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। এখন কাজ প্রায় শেষের পথে। পুজোয় অনুদান দেওয়া গৃহবধূদের কথায়, সংসারের জন্য পাওয়া অর্থের সামান্য অংশ মায়ের আরাধনায় দিয়ে তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানাতে চান।

Leave a comment