দুর্গাপুজো শেষ হলেও গঙ্গার ঘাটে এখনও পড়ে রয়েছে বিসর্জনের বর্জ্য। কোথাও নদীর জলে ভাসছে প্রতিমার কাঠামো, কোথাও আবার পাড়ে জমে রয়েছে আবর্জনা। দশমীর পর একদিন পেরিয়ে গেলেও হাওড়ার একাধিক ঘাটে এই ছবি দেখা গিয়েছে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কাঠামো ও অন্যান্য বর্জ্য সরানো না হলে গঙ্গার জল দূষিত হতে পারে।
বুধবার দশমী থেকেই হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্জনের পর প্রতিমার কাঠামো দ্রুত জল থেকে তুলে ফেলার কথা। সেই কাজে হাওড়া পুরসভার তরফে কর্মী ও ক্রেনের ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরেও রামকৃষ্ণপুর ঘাট-সহ কয়েকটি জায়গায় গঙ্গার জলে কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিবপুর ও বাঁধাঘাটে অবশ্য পরিস্থিতি তুলনায় ভালো।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত রং এবং সাজসজ্জার বিভিন্ন উপকরণ থেকে নদীর জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার উপর ফুল, মালা, পাতা-সহ বিসর্জনের নানা সামগ্রী জলে পড়ে থাকলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই নিরঞ্জনের পর দ্রুত কাঠামো সরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের বক্তব্য, গঙ্গার পাড়ে ও নদীর জলে এখনও কাঠামো পড়ে থাকার ঘটনা বিসর্জন ব্যবস্থাপনার খামতিই তুলে ধরছে। এই কাজে যুক্ত কর্মীদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, হাওড়া পুরসভার এক শীর্ষ কর্তার দাবি, গভীর রাত পর্যন্ত বিসর্জন চলেছে। জলের ঢেউয়ে কোনও কোনও কাঠামো দূরে সরে গিয়ে থাকতে পারে। ফলে সেগুলি কর্মীদের নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি কাঠামো দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হুগলির বিভিন্ন ঘাটেও বিসর্জনের পর সাফাইয়ের কাজ চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। শ্রীরামপুর পুরসভার তরফে পুজো কমিটিগুলিকে কাঠামো ও অন্যান্য বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফুল, বেলপাতা ও মাটির প্রদীপ ফেলার জন্য ঘাটে রাখা হয়েছে আলাদা ড্রাম। তবে জেলার কয়েকটি পুকুরে এখনও কাঠামো পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলি জানিয়েছে, শনি ও রবিবারের মধ্যে সেগুলি সরিয়ে ফেলা হবে।

Leave a comment