শিলিগুড়িতে ফেরার পথে কার্শিয়াঙের পাহাড়ি রাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় একটি গাড়ি। রবিবার রাতে রোহিণী রোডের কার্গিল ধারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অভিষেক সাহা নামে এক যুবকের। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
জানা গিয়েছে, অভিষেক শিলিগুড়ি বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য বাপি সাহার ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে কার্শিয়াঙে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। রবিবার রাতে সেখান থেকে শিলিগুড়ির দিকে ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোহিণীর কার্গিল ধারা এলাকায় আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দুর্ঘটনার আগে থেকেই ওই এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির পরিমাণও বেড়েছিল। ভেজা ও পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
গাড়িটি খাদে পড়ার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রথমে স্থানীয়দের চেষ্টায় গাড়ির ভিতর থেকে দু’জনকে বের করে আনা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের সাহায্যে আরও তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তবে গাড়ির ভিতরে আটকে ছিলেন অভিষেক। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও দমকলের দল পৌঁছতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে থানা এবং দমকল কেন্দ্র প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। তারপরও পুলিশ পৌঁছতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় নেয়। দমকলের সঙ্গেও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু প্রথম দিকে ফোনে সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ।
আহত পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের চিকিৎসা চলছে কার্শিয়াঙের একটি হাসপাতালে। অন্য তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রাতেই শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a comment