শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা এ বছরও পূর্বপল্লির মাঠেই বসতে চলেছে। সম্প্রতি বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের বৈঠকে এই বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেলার পুরনো ঠিকানা বজায় রাখার সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।
পৌষমেলা মানেই বাউল গান, বাংলার লোকশিল্প আর হস্তশিল্পের পসরা। প্রতি বছর মেলা দেখতে বোলপুরে ভিড় করেন বহু মানুষ। কেনাকাটার পাশাপাশি শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও থাকে অনেকের। মেলাকে ঘিরে এলাকার হোটেল, হোমস্টে, খাবারের দোকান এবং ছোট ব্যবসায়ীদের বিক্রিবাটাও বাড়ে। তাই পূর্বপল্লির মাঠে মেলা হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের আগ্রহ ছিল যথেষ্ট।
করোনা অতিমারি ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে পৌষমেলার আয়োজন করেনি বিশ্বভারতী। সেই সময় বোলপুরের ডাকবাংলো ও স্টেডিয়াম মাঠে বিকল্প মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে ফের পূর্বপল্লির মাঠে ফিরে আসে পৌষমেলা। যদিও সে বছর বিশ্বভারতী সরাসরি মেলার আয়োজন করেনি, নির্দিষ্ট শর্তে জেলা প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই মাঠেই বসেছিল মেলা।
চলতি বছরে মেলার আয়োজন নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি সেই বিষয়েই বৈঠকে বসেন বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ এবং বোলপুরের মহকুমাশাসক ব্রততী দত্ত-সহ অন্য আধিকারিকেরা।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পুরনো ঐতিহ্য মেনেই পূর্বপল্লির মাঠে পৌষমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্বভারতীকে সাহায্য করবে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দফতর।
বৈঠক শেষে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর দাস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পৌষমেলা আয়োজন নিয়েও কথা হয়েছে। মেলা সফল করতে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দফতর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তবে মেলার আয়োজনের খুঁটিনাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে ফের বৈঠক করে মেলার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেই বৈঠকেই আয়োজনের বাকি বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পূর্বপল্লির মাঠে মেলা হওয়ার সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, পুরনো জায়গায় পৌষমেলা বসলে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে, আর তার সুফল মিলবে এলাকার ব্যবসাতেও।

Leave a comment