দুর্গাপুজোর আগে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নতুন উদ্যোগ নিল শিয়ালদহ ডিভিশন। ব্যারাকপুর স্টেশনে চালু হয়েছে নতুন টিকিট বুকিং কাউন্টার। অন্যদিকে, শিয়ালদহ ও বালিগঞ্জ স্টেশনে খুলে দেওয়া হয়েছে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স। দমদম স্টেশনেও পুজোর আগে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের।
পুজোর সময়ে লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। ঠাকুর দেখতে বেরোনো মানুষের পাশাপাশি নিত্যযাত্রীদেরও যাতায়াত করতে হয়। ফলে টিকিট কাটার কাউন্টারে লম্বা লাইন কিংবা স্টেশনে প্রয়োজনীয় পরিষেবা না পেয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকে। উৎসবের মরশুমে সেই ভোগান্তি কমাতেই এই উদ্যোগ।
ব্যারাকপুর স্টেশনের রানাঘাট প্রান্তে নতুন টিকিট বুকিং কাউন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে টিকিট কাটার জন্য যাত্রীরা আরও একটি কাউন্টার পাবেন। বিশেষ করে অফিসের ব্যস্ত সময়ে এবং পুজোর দিনগুলিতে এই ব্যবস্থা কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের চাপ বাড়লেও টিকিটের লাইনে অপেক্ষার সময় কিছুটা কমতে পারে।
নতুন কাউন্টারটি এমন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে, যাতে স্টেশনের প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজ (এফওবি) এবং অতিরিক্ত প্রবেশপথ ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের।
শিয়ালদহ ও বালিগঞ্জ স্টেশনে চালু হয়েছে আধুনিক পে অ্যান্ড ইউজ শৌচাগার কমপ্লেক্স। বিমানবন্দরের আদলে তৈরি এই শৌচাগার ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট মাশুল দিতে হবে। পুরুষ, মহিলা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন এই দুই স্টেশন দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। পুজোর সময়ে ভিড় বাড়লে শৌচাগারের প্রয়োজনও বাড়ে। তাই নতুন এই পরিষেবা যাত্রীদের কাজে আসবে বলে মনে করছে রেল।
শিয়ালদহ ডিভিশন সূত্রে খবর, দমদম স্টেশনেও পুজোর আগেই আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই উদ্যোগ। উৎসবের সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরতলির রেলের উপর নির্ভর করেন। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই স্টেশনগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

Leave a comment