উপনির্বাচনের ভোটগণনায় দুই কেন্দ্রেই এগিয়ে বিজেপি। রেজিনগরে অষ্টম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪৯৮ ভোটের লিড। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এগিয়ে ৪১ হাজার ৫০০ ভোটে। গণনার এই ছবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।

রেজিনগরে প্রথম রাউন্ড থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। সময়ের সঙ্গে ব্যবধানও বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। তার পরেই রয়েছে কংগ্রেস। মমতার তৃণমূল, সিপিএম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল রয়েছে তালিকার পরের দিকে।

নন্দীগ্রামেও বিজেপির সঙ্গে ব্যবধান কমাতে পারেনি অন্য দলগুলি। হাসিরানি রথের পিছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস, তৃতীয় স্থানে সিপিআই। চতুর্থ স্থানে আইএসএফ এবং পঞ্চম স্থানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল।

ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক হারানোর পর আলাদা পরিচয়ে ভোটে নামে মমতার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতশিবিরের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী প্রত্যাহার এবং কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্তও নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রভাব ফেলেছে। গণনার প্রাথমিক ছবিতে দুই কেন্দ্রেই পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূলের দুই শিবির। বাম ও আইএসএফও এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিতে পারেনি।

নন্দীগ্রামে এগিয়ে থাকার পর মানুষের সমর্থন নিয়ে আশাবাদী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি বলেন, “জনতার রায়ে আনন্দিত হলেও বুকে হাহাকার রয়েছে। মানুষ যদি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন, শুভেন্দু অধিকারীও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখবেন। অবলুপ্তির পথে বিরোধীরা।”

ভোটগণনা নিয়ে অবশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি বাইরে থাকলে ভোটলুট প্রতিরোধ হত, তা ভয় পেয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখল। নির্বিচারে যাঁরা লুট করছে, তাঁদের আবার গণনা কী?”

উল্লেখ্য, উপনির্বাচনের প্রচারে রেজিনগরে গিয়ে মুসলিম ভোটারদের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল। এখন দুই কেন্দ্রের গণনায় বিজেপির এগিয়ে থাকা এবং বিরোধীদের পিছিয়ে পড়ার দিকেই নজর রয়েছে সবার। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

Leave a comment