গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার। জানুয়ারিতে মেলা শুরুর আগে প্রস্তুতি দেখতে কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে জনসভায় মেলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। সিএএ-তে আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
জনসভায় শুভেন্দু বলেন, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। রাজ্যে সরকার বদলের পর এই প্রথম বিজেপি সরকারের উদ্যোগে মেলা হতে চলেছে। এর আগে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি না দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় বিষয়টি ফের আলোচনায় এল।
সুন্দরবনের উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এলাকার ১৩টি ব্লকের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের টাকা খরচে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২০০ কোটি টাকা খরচ করেছিল আগের সরকার। বিভিন্ন প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মুড়িগঙ্গার উপর সেতু তৈরির কাজ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকার সেতু নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুল বুঝিয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর। ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে জানান শুভেন্দু। আগামী ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করতে তিনি ফের কাকদ্বীপে আসবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সিএএ-তে আবেদন করেও অনেকে এখনও নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকদের আবেদনকারীদের শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলেছেন তিনি।

Leave a comment