প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষকদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে কৃষি, বিদ্যুৎ এবং ধান কেনা নিয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
কৃষকদের বিদ্যুৎ খরচে স্বস্তি দিতে বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ব বর্ধমানের ৪ লক্ষেরও বেশি কৃষক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি পাবেন। এই খাতে সরকারের অতিরিক্ত বরাদ্দ হবে ৩০০ কোটি টাকা।
কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য আরও ৩ হাজার টাকা যোগ করবে। ফলে ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন শেষ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জমির মালিক কৃষকরা বছরে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা পাবেন। বেশি জমি থাকা কৃষকদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ হবে ৬ হাজার টাকা।
ধান কেনার ক্ষেত্রেও কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। ৫ একর পর্যন্ত জমি থাকা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল ধান ২৭০০ টাকা দরে কেনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে দালাল বা ফড়েদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে সরকারই ধান কিনবে। ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আলুচাষিদের জন্যও ডিসেম্বর মাসে বিশেষ প্যাকেজ আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে আলুচাষিরা বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। সার নিয়ে কালোবাজারি থেকে শুরু করে হিমঘর সংক্রান্ত সমস্যা—একাধিক বিষয় তুলে ধরে কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকির আশ্বাস দেন তিনি।
এদিন পূর্ব বর্ধমানে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং সূর্যঘর প্রকল্পের সুবিধা উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভাতারে ১২৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার প্রকল্প-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জামালপুরের চৌবেরিয়ায় ইডেন খালের উপর সেতুর পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রকল্পও এদিন উদ্বোধন করা হয়।
প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন শুভেন্দু। ১২৫ দিনের জি রাম জি প্রকল্প, অন্নপূর্ণা থেকে আবাস এবং আয়ুষ্মান থেকে জলজীবন মিশন—একাধিক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউসিসি, লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদ নিয়ে আইন আনার কথাও ফের জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a comment