রাজ্যে পালাবদলের পর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি সরকার। এবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মীদের সুবিধা নিয়ে একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পানিহাটিতে ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি ভাড়া বাড়িতে চলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকেও ধাপে ধাপে সরকারি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত অগস্টেই তাঁদের বেতন ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে।

শিশু ও প্রসূতিদের জন্য খাবারের বরাদ্দ নিয়েও এদিন বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের খাবারের বরাদ্দ ২ টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। প্রসূতিদের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশু ও মায়েদের পুষ্টির বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হল ভাড়া বাড়িতে চলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়া করা বাড়িতে চলছে। আগামী দিনে সেই কেন্দ্রগুলিকে সরকারি জায়গায় নিজস্ব ঠিকানা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি আইসিডিএস কেন্দ্রকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির বিদ্যুতের খরচ সরকার বহন করবে বলে জানান তিনি।

এদিন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও। শিশুদের জীবনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই শিশুদের প্রথম গুরু। তাঁদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a comment