পুজো মানেই সাজগোজের প্রস্তুতি। নতুন পোশাক, চুলের স্টাইল, মেকআপ—সবকিছুর সঙ্গে ত্বকের যত্নও চলে সমান তালে। কারণ মুখে ক্লান্তি বা নিস্তেজ ভাব থাকলে যতই সাজ হোক, কোথাও একটা খামতি থেকে যায়। তাই পুজোর আগে পার্লারে ফেশিয়াল করানোর ভিড়ও বাড়ে। রোদে ঘোরাঘুরির ফলে মুখে ট্যান পড়লে অনেকেই ডিট্যান ফেশিয়াল করান। আবার মুখের জেল্লা ফেরাতে ব্রাইটনিং ফেশিয়ালও বেশ জনপ্রিয়। তবে দু’টির কাজ এক নয়।
পুজোর কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি বা ঠাকুর দেখার সময়ে বেশ কিছুটা সময় রোদে কাটে। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে মুখে ট্যান পড়তে পারে। ত্বকের কিছু অংশ তখন কালচে দেখায়, অনেক সময় মুখের রংও অসম লাগে। এই ট্যান ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতেই মূলত ডিট্যান ফেশিয়াল করা হয়।
এই ফেশিয়ালে প্রথমে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। তার পর থাকে এক্সফোলিয়েশনের ধাপ। এতে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ফেশিয়ালের ধরন অনুযায়ী ভিটামিন C, ফলের অ্যাসিড বা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে মুখ কিছুটা পরিষ্কার ও মসৃণ দেখায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে এক্সফোলিয়েশনের পর জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
মুখে ট্যানের পাশাপাশি যদি নিস্তেজ ভাব থাকে, তাহলে ব্রাইটনিং ফেশিয়াল বেছে নিতে পারেন। এর লক্ষ্য শুধু ট্যান কমানো নয়, ত্বকের সামগ্রিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা। অসম স্কিন টোন বা ক্লান্ত দেখানো ত্বকের ক্ষেত্রেও এই ধরনের ফেশিয়াল করা হয়।
ব্রাইটনিং ফেশিয়ালে ক্লিনজিং, এক্সফোলিয়েশন এবং ম্যাসাজের মতো ধাপ থাকতে পারে। ত্বকের প্রয়োজন বুঝে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে LED লাইট বা অক্সিজেন-ভিত্তিক পরিষেবাও দেওয়া হয়। এর ফলে মুখকে আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
যাঁদের মূল সমস্যা রোদে পোড়া ট্যান, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিট্যান ফেশিয়াল বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে ট্যানের সঙ্গে যদি মুখে নিস্তেজ ভাব, অসম টোন বা ক্লান্তির ছাপ থাকে, তাহলে ব্রাইটনিং ফেশিয়াল বেশি উপযোগী হতে পারে। মনে রাখা দরকার, কোনও ফেশিয়ালই ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলে দেয় না। ত্বককে পরিষ্কার, সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতেই এগুলি সাহায্য করে।
পুজোর একেবারে আগে প্রথমবার কোনও ফেশিয়াল করানো ঠিক নয়। নতুন কোনও উপাদান ত্বকে সহ্য না হলে অ্যালার্জি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তখন সমস্যা সামলানোর সময়ও কম থাকে। বিশেষ করে ত্বক সংবেদনশীল হলে, ব্রণ বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ফেশিয়াল করানো ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও জরুরি।

Leave a comment