দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রির মামলায় এবার ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কলকাতা পুলিশ। সোমবার লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আভেরি সেনকে। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কয়েকটি লেনদেন। পুলিশ সূত্রে খবর, দুটি সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। সেই বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতে চান গোয়েন্দারা।
শনিবারই লালবাজারে হাজিরা দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশেষ তদন্তকারী দল। ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হওয়ার তিন দিনের মাথায় তাঁর স্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, পুজোর পাস বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ‘মাস আর্ট’ সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মধুছন্দা। ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর ভূমিকা ছিল। সংস্থার একাধিক নথিতে তাঁর সই পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।
তদন্তে আর্থিক লেনদেনের যে হিসাব সামনে এসেছে, তাতেই আভেরির নাম উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ ‘থার্ড লাইন ক্রিয়েশন’ নামে একটি সংস্থা ‘মাস আর্ট সোসাইটি’-কে ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। ওই টাকার মধ্যে ২২.৪৭ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় ‘আইস্কেপ’ ও ‘মায়রা’ নামে দুটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই সংস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইন্দ্রনীলের মেয়ের হাতে। ওই টাকার লেনদেন নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ইন্দ্রনীলের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির কর্মীদেরও জেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। তিনটি সংস্থার কর্মীদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা। তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে লালবাজারে ডেকে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে, পুজো উদ্যোক্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রিভিউ শো আয়োজনের পদ্ধতি নিয়েও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ইউনেস্কোর লোগো দেখে তাঁরা ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। ‘মাস আর্ট’-এর কর্মীরাই বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে প্রিভিউ শো-এর আয়োজন করতেন। এর বদলে পুজো কমিটিগুলিকে সামান্য টাকা দেওয়া হত। মণ্ডপে এলইডি গেট বসানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই গেটে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিবর্তে পুজো কমিটিগুলিকে দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হত। পাস বিক্রি থেকে যে টাকা উঠেছিল, তার তুলনায় উদ্যোক্তাদের হাতে অনেক কম অর্থ পৌঁছেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

Leave a comment