নৈহাটির বড়মার পুজোয় ভিড় হয় প্রতি বছরই। উত্তর ২৪ পরগনা তো বটেই, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বড়মাকে দেখতে। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মানত পূরণ করতে দণ্ডী কাটেন অনেকে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে মন্দির চত্বরে ভিড় সামলানো পুলিশের কাছে বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর এবার বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন।
সোমবার বড়মা মন্দিরে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুজো কমিটির সদস্য, মহকুমা শাসক, ইও এবং পুলিশ আধিকারিকরা। মন্দির চত্বর ঘুরে দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এবার মন্দিরে প্রবেশ ও বেরনোর জন্য আলাদা রাস্তা রাখা হচ্ছে। মন্দিরের আশপাশের রাস্তাগুলি সরু হওয়ায় একই পথে ঢোকা ও বেরনোর ব্যবস্থা থাকলে ভিড় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এক দিক দিয়ে ভক্তরা মন্দিরে ঢুকবেন, অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যাবেন। পুজোর দিনগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কয়েকটি রাস্তার গতিপথও বদলানো হতে পারে। স্নান সেরে যাঁরা পুজো দিতে আসবেন, তাঁদের যাতায়াতের উপরেও নজর রাখবে প্রশাসন।
এবার নিরাপত্তার জন্য এনডিআরএফ মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। কোনও বিপত্তি ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়, সেই প্রস্তুতি থাকছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার ভিআইপিদের জন্য আলাদা যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা থাকছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ১০৩তম বর্ষের বড়মার পুজোর নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে। ২ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দান ও মানসিক পুজো গ্রহণ করা হবে। ৬ থেকে ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে সব ধরনের পুজো। ৭ ও ৮ নভেম্বর গয়নায় সাজানো হবে বড়মাকে। ওই দু’দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দণ্ডী কাটতে পারবেন ভক্তরা। ফল ও মিষ্টির ডালিও নেওয়া হবে।
৮ নভেম্বর রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বড়মাকে বরণ করা হবে। রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘট প্রতিষ্ঠা হবে। রাত ১২টায় শুরু হবে দেবীর পুজো। রাত দেড়টা থেকে অঞ্জলি শুরু। অঞ্জলি পর্ব শেষ হলে রাত ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে।

Leave a comment