বাইরে থেকে ঝকঝকে হোটেল। কিন্তু রান্নাঘরের ভিতরে কী অবস্থা, তা জানলে হয়তো সেখানে খেতে যাওয়ার আগে দু’বার ভাববেন। দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার একাধিক হোটেলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে এমনই ছবি সামনে এসেছে। কোথাও ফ্রিজে রাখা পচা মাংস, কোথাও আবার পনির ও চিকেনের গায়ে ছত্রাক। শুধু তাই নয়, মানুষের খাবার রাখার ফ্রিজে মিলেছে কুকুরের খাবারও। উদ্ধার হয়েছে বাসি ভাত, তরকা, চানা মশলা এবং দীর্ঘদিনের পুরনো মশলা।
খাদ্য সুরক্ষা দফতর, দুর্গাপুর নগর নিগম ও পুলিশের যৌথ দল হোটেলগুলিতে অভিযান চালায়। রান্নাঘর এবং খাবার মজুত রাখার জায়গা খতিয়ে দেখতেই একের পর এক অনিয়ম চোখে পড়ে। বেশ কিছু খাবার দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে রাখা ছিল। সেগুলির মধ্যে কোনওটির গায়ে ছত্রাক ধরেছে, আবার কোনওটি একেবারেই খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পনির ও চিকেনের এমন অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা।
এর মধ্যেই নজরে আসে আরও একটি বিষয়। মানুষের খাবারের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখা হয়েছে কুকুরের খাবার। হোটেলের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানান আধিকারিকরা। তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ, পোষ্যের খাবার আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। মানুষের খাবারের সঙ্গে তা কোনওভাবেই রাখা চলবে না।
তল্লাশিতে খাবার সংরক্ষণের নিয়ম না মানার বিষয়টিও সামনে আসে। কোনও খাবার কবে তৈরি হয়েছে, কতদিন ধরে রাখা রয়েছে, তা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তারিখ বা ট্যাগ থাকা জরুরি। কিন্তু হোটেলগুলিতে মজুত খাবারের পাত্রে সেই তথ্যই ছিল না। ফলে খাবারগুলি কতদিনের পুরনো, তা জানার উপায় ছিল না। এমন খাবার গ্রাহকদের পরিবেশন করা হলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিযানের পর হোটেলের ম্যানেজারদের ডেকে সতর্ক করেন আধিকারিকরা। খাবার সংরক্ষণে নিয়ম মানার পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলিকে জরিমানাও করা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের দুর্গাপুরের আধিকারিক শুভম ঘোষ জানান, অভিযানে বেশ কিছু বাসি, পচা ও পুরনো খাবার উদ্ধার হয়েছে। মানুষের খাবারের সঙ্গেই রাখা হয়েছিল কুকুরের খাবার। সেটি আলাদা জায়গায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে একই ধরনের গাফিলতি ধরা পড়লে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a comment