হাওড়ার বঙ্কিম সেতুর নীচ দিয়ে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, পিলারের গায়ে পানের পিকের দাগ তাঁদের অচেনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমন ছবি দেখা যায় সেতুর বিভিন্ন পিলারে। এবার সেই চেহারা বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে হাওড়া পুরসভা। কালীপুজোর আগে পিলারগুলিতে ছবি আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। একটি আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তুলির টানে ফুটিয়ে তুলছেন বাংলার নানা পরিচিত ছবি। কোথাও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কোথাও দুর্গাপ্রতিমা। থাকছে বেলুড় মঠ, দক্ষিণেশ্বর এবং হাওড়া ব্রিজের ছবিও।

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বেশ কয়েকটি সেতু সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে হাওড়ার বঙ্কিম সেতুতেও। বঙ্গবাসী মোড় থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর হাওড়া ময়দান সংলগ্ন অংশে চলছে কাজ। সেতুর নীচে প্রায় ১৪টি পিলারকে ছবি আঁকার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। হাওড়ার পুর কমিশনার তেজস্বী রানার নির্দেশে এই কাজ করছেন আর্ট কলেজের পড়ুয়ারা।

পিলারগুলিতে বাংলার সংস্কৃতি ও শহরের নানা পরিচিত নিদর্শন তুলে ধরা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ, দুর্গাপ্রতিমা, কাশফুল, পাখি, ফুল ও মুখোশের পাশাপাশি আঁকা হচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং কলকাতার টানা রিকশা। বাদ যাচ্ছে না হাওড়া ব্রিজ, বেলুড় মঠ ও দক্ষিণেশ্বরও।

এই কাজে যুক্ত ছাত্রী অমৃতা মান্না জানান, পুর কমিশনারের তরফে তাঁদের পিলারগুলিতে ছবি আঁকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, নতুন করে সাজানো পিলারগুলিতে কেউ যেন পানের পিক না ফেলেন।

আর এক ছাত্র সৌরিন মুখোপাধ্যায় মনে করেন, এই কাজের ফলে বঙ্কিম সেতু আরও পরিচিতি পাবে। তবে শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, সেতুর নিয়মিত দেখভালও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পিলারগুলিকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি সেতুর কাঠামো রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পিলারগুলির ক্ষতি রুখতে মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। কালীপুজোর আগেই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার।

Leave a comment