দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে একাধিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মেয়াদের মাঝপথেই বড় ধাক্কা খেল তাঁর দল। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল রিপাবলিকানরা। ফলে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে। দু’বছর পরেই আমেরিকায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে এই ফল ট্রাম্পের পক্ষে যে যথেষ্ট অস্বস্তির, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া হিসাব বলছে, ১০০ আসনের সেনেটে ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানরা এগিয়ে ৪২টিতে। অন্যদিকে, ৪৩৫ আসনের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে ২২৪টি আসন। রিপাবলিকানরা এগিয়ে ১৩৩টিতে। কয়েকটি আসনের ফল অবশ্য এখনও ঘোষণা হয়নি। এর আগে সেনেটে ৫৩টি আসন ছিল রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭টি। নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ছিল ২১৮, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে আগামী দিনে ট্রাম্পের একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে বাধা দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত, শুনানির আয়োজন এবং সমন জারির ক্ষমতাও থাকবে তাঁদের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের উপর নজরদারি আরও বাড়াতে পারবেন বিরোধীরা। যদিও ট্রাম্পের হাতে রয়েছে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা। আবার সেনেটে ফিলিবাস্টারের মতো কৌশলও আইন পাশের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তবে নিজের ভেটো ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিতেও ভোলেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমার সত্যিই মনে হয় ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছে। আমেরিকায় এবার ভিন্ন এক হাওয়াও ছিল। তাই আমার অপরাধবোধে ভোগার কোনও কারণ নেই।” তাঁর আরও দাবি, “যদি আমি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম।”

Leave a comment