রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ করেছে নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পরশুড়ায় সভা থেকে এই প্রকল্পের টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলেরও। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ৫০ লক্ষেরও বেশি নথিভুক্ত কৃষক এই আর্থিক সুবিধা পাবেন।
প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই দু’টি কিস্তিতে মোট চার হাজার টাকা পেয়েছেন কৃষকরা। বাকি দু’হাজার টাকা রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি মতো বৃহস্পতিবারের সভা থেকেই টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে এই কর্মসূচি ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, আলুচাষিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন, তা নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। গত কয়েক বছরে আলুর দাম না পেয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এখনও বহু আলুচাষির ফসল হিমঘরে মজুত রয়েছে। বাজারে দাম না মেলায় একদিকে বিক্রি করা যাচ্ছে না আলু, অন্যদিকে হিমঘরের ভাড়া মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আলুচাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। মূল মঞ্চের সামনে তৈরি করা হয়েছে তিনটি শেড। প্রায় ৪০ হাজার চেয়ার রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে। হুগলির বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে কয়েকশো বাসের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সভাস্থল ঘিরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
পরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানিয়েছেন, হুগলি কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় আলুচাষিদের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। সেই মতো প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, শুধু আলুচাষিদের জন্য নয়, কৃষকদের জন্যও বড় ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন পরশুড়ার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে কৃষকরা।

Leave a comment