শহরে অপরাধের খবর পেলে পুলিশের পৌঁছতে দেরি হলে চলবে না। কোনও ঘটনা ঘটার খবর পাওয়ার দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে পুলিশকর্মীদের। এই লক্ষ্যেই প্রত্যেক থানায় অতিরিক্ত বাইক বাহিনী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিল লালবাজার। সম্প্রতি থানার ওসিদের নিয়ে বৈঠকে এই নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকর্তারা। প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি পরিষেবা দিতে ট্রাফিক পুলিশের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে কলকাতার মূল এলাকায় কোনও ঘটনার খবর পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন টহলদার পুলিশকর্মীরা। কন্ট্রোল রুম থেকে থানায় খবর আসার পর ডিউটি অফিসার প্রথমেই রাস্তায় থাকা বাইক বাহিনীকে সতর্ক করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরাই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার গুরুত্ব বেশি হলে থানার আধিকারিকদের খবর দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। এবার সেই সময়সীমা আরও কমিয়ে আনতে চাইছে লালবাজার।
একই সময়ে শহরের একাধিক জায়গায় গোলমাল বা অপরাধের খবর এলে যাতে পুলিশি পরিষেবা ব্যাহত না হয়, তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। একটি বাইক বাহিনী কোনও ঘটনায় ব্যস্ত থাকলে দ্বিতীয় ঘটনার জন্য অন্য দলকে প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রথম দলটি আগের ঘটনাস্থলে কাজ শেষ করতে দেরি হবে বুঝলে থানাকে জানাবে। তখন দ্বিতীয় দলটি দ্রুত রওনা দেবে। সম্প্রতি থানাগুলিকে নতুন বাইকও দেওয়া হয়েছে। সেগুলিকে কাজে লাগিয়েই অতিরিক্ত দল তৈরি রাখার পরিকল্পনা।
তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বড় বাধা শহরের যানজট। বিশেষ করে যাদবপুর, বেহালা কিংবা ভাঙড় ডিভিশনের মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় এই সমস্যা বেশি। কোথাও যানজটের কারণে বাইক বাহিনীর পৌঁছতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক গার্ড এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমকে দ্রুত জানাতে হবে। বাইক বাহিনীর যাতায়াতের পথ যতটা সম্ভব যানজটমুক্ত করার ব্যবস্থা করবে ট্রাফিক পুলিশ। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের উপস্থিতির সময় আরও কমাতে চাইছে লালবাজার।

Leave a comment