পঞ্চায়েত দফতরে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। প্রায় ৭১৯০টি শূন্যপদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি অস্থায়ী পদেও নেওয়া হবে আরও এক হাজার কর্মী। বুধবার পঞ্চায়েত ভবনে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নিয়ম চালু করা হবে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে নিয়োগ। এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য দীপাবলির পর বিশেষ অধিবেশন বসতে পারে।

এদিন পঞ্চায়েত ভবনে ১২৫ দিনের কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ দফতরের আধিকারিকরা। রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও বিডিওরাও বৈঠকে যোগ দেন। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ কাজ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে রাজ্য। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় কেন্দ্র ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। নতুন করে ১০ লক্ষ জব কার্ডও দেওয়া হয়েছে।

জব কার্ডের হিসাব নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আধারের সঙ্গে কেওয়াইসি সংযুক্ত করার সময় ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ডের হদিশ মিলেছে। ওই কার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলাও হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। আগের সরকারের আমলে এই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, নতুন করে ১০ লক্ষ জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, নিউটাউনে তৈরি হবে পঞ্চায়েত দফতরের নতুন ভবন। প্রস্তাবিত নতুন বিধানসভা ভবনের জন্য চিহ্নিত জমির পাশেই পাঁচ একর জায়গায় এই ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, আগামী দু’বছরের মধ্যে গ্রামের সামগ্রিক পরিকাঠামোয় বদল আনাই তাঁদের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন সম্পদ ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ করা হবে।

Leave a comment