দিঘায় বেড়াতে গেলে সমুদ্রের ধারে কিছুটা সময় কাটানো পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসায় অনেক সময় হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে ছুটির দিনে ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পর্যটকদের এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার সৈকত থেকে হকার সরানোর সিদ্ধান্ত নিল দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। মঙ্গলবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।

দিঘায় সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় থাকে। শনি-রবিবার কিংবা টানা ছুটির দিনে সেই ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সমুদ্রের ধারে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সৈকতে অস্থায়ী দোকানের সংখ্যাও বেড়েছে। এর জেরে অনেক সময় সৈকত সরণী দিয়ে যাতায়াতের জায়গা কমে যায়। পর্যটকদের একাংশের তরফে এই সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে কথাও জানানো হয়েছিল। এবার সেই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ করল পর্ষদ।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সমুদ্রের মধ্যে বা সৈকতের ধারে বসে আর কোনও সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। এতদিন যাঁরা সেখানে দোকান নিয়ে বসতেন, তাঁদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকেই এই নিয়ম চালু হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কার্যনির্বাহী আধিকারিক ধুমাল প্রতীক অশোক জানিয়েছেন, দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। সৈকত সরণী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধার কথা জানাচ্ছিলেন অনেকে। পর্যটকরা যাতে সহজেই সমুদ্রের ধারে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সেই কারণেই হকারদের বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পর্ষদের এই সিদ্ধান্তে খুশি পর্যটকদের একাংশ। দিঘা শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সৈকতে দোকানের ভিড় কমলে পর্যটকদের চলাফেরায় সুবিধা হবে। সমুদ্রের ধারে সময় কাটানোর ক্ষেত্রেও স্বস্তি মিলবে।

দিঘা ও শঙ্করপুরকে সাজিয়ে তুলতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে দিঘাতেও মেরিন ড্রাইভ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। এবার সৈকত থেকে হকার সরানোর সিদ্ধান্তও সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হল।

Leave a comment