রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে এবার ছটপুজোর অনুমতি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে এমনটাই জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর এই ঘোষণার পরেই সরোবর দুটিতে পুজোর আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে সেখানে ছটপুজো বন্ধ হয়েছিল। পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কায় নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পর এবার ফের পুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা বলায় আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশবিদদের একাংশ।

আগামী ১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর ছটপুজো। তার আগে ঘাটগুলির প্রস্তুতি দেখতে এদিন পুর দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে যান অগ্নিমিত্রা। পুজোর সময় পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা।

মন্ত্রী জানান, শহরের পুকুর, লেক ও গঙ্গার ঘাটগুলিতে পুজোর ব্যবস্থা করা হবে। পুকুরের ধারে পেভার ব্লক দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হবে। ঘাটে থাকবে পোশাক পরিবর্তনের ঘর ও বায়ো টয়লেট। ভোরে পুজো করতে আসা মানুষের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হবে দিকনির্দেশক বোর্ড। জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য ঘাটগুলিতে দেওয়া থাকবে বিশেষ ফোন নম্বর।

ভিড় সামলাতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। একসঙ্গে অনেক পুণ্যার্থীকে জলে নামতে দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাসেবকরা বিষয়টি দেখবেন। একদল পুজো সেরে উঠে আসার পর অন্য দলকে জলে নামতে দেওয়া হবে। পুজোর সামগ্রী যাতে জলে ফেলে রাখা না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে।

রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবর নিয়ে অগ্নিমিত্রার ঘোষণাই এদিনের পরিদর্শনের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। ২০১৭ সালে এনজিটির নির্দেশের পর থেকে এই দুই সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রয়েছে। পুণ্যার্থীদের জন্য শহরের অন্য জায়গায় বিকল্প ঘাটের ব্যবস্থা করা হত। এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

অগ্নিমিত্রা বলেন, “এবছর আমরা রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেব। না হলে সেখানকার মানুষ যাবেন কোথায়?” আগের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে পুজো শেষে সমস্ত সামগ্রী সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

সূত্রের খবর, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর জন্য চার-পাঁচটি অস্থায়ী ঘাট তৈরির মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরোবরের মধ্যে কীভাবে এই ঘাট তৈরি করা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ।

সরকারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরাও। ‘রবীন্দ্র সরোবর বাঁচাও’ আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোমেন্দ্র মোহন ঘোষের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ দপ্তরের ভাবা উচিত। সুপ্রিম কোর্ট ও ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রবীন্দ্র সরোবরের জল এমনিতেই দূষিত। সেখানে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই নতুন করে পুজোর আয়োজনের আগে পরিবেশের উপর তার প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনও কাজ করা হবে না। ছটপুজোর আগে ও পরে জলাশয় এবং ঘাট পরিষ্কারের ব্যবস্থা থাকবে। সরোবরে পুজোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে ২০১৭ সালের নির্দেশের পর সেখানে পুজোর আয়োজন কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

Leave a comment